* বগুড়ার শান্তাহার খাদ্য অফিসের কর্মকর্তা হলেও রাজশাহীতে ডিউটি করছেন
* ডিপিএস, এফডিআর এবং সঞ্চয়পত্রে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে
* গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া মৌজার ১ একর ১৫ শতাংশ জমি দখল করেছেন
খাদ্য অধিদফতরের রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শেখ মো. মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, জমি দখল এবং টেন্ডারবাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বাড়ি, গাড়ি ও অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি মিলে প্রায় ৭০ কোটি টাকার আয় বহির্ভূত সম্পদের মালিক।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দিয়েছেন মাহবুব হোসেনের এক সহকর্মী মো. সামিউল ইসলাম, যিনি কেন্দ্রীয় খাদ্য ভবনের অফিস সহকারী।
মাহবুব হোসেনের বাড়ি গোপালগঞ্জে। ওই বাড়ির সূত্র ধরে তিনি শেখ হাসিনার পরিবারের নাম ভাঙিয়ে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, জমি দখল এবং টেন্ডারবাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। যদিও শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে, মাহবুব হোসেনের দাপট এখনও অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র জানায়, বগুড়ার শান্তাহার খাদ্য অফিসের কর্মকর্তা হলেও তিনি রাজশাহী খাদ্য অফিসে ডিউটি করছেন। আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিস থেকে জানা যায়, মাহবুব হোসেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে বসেন, তবে সেখানে তার কোনো নির্দিষ্ট কক্ষ নেই। তিনি সাধারণত নিচতলার কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক আল সিহাবুল ইসলামের কক্ষে বসেন।
জানা গেছে, ঢাকার ১১৩/২ জিগাতলায় নির্মিত একটি ভবনের তৃতীয় তলায় মাহবুব হোসেনের একটি ১৮০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। রাজশাহীতে তার নিজস্ব পাঁচতলা ভবনটির মূল্য আনুমানিক ৭ কোটি টাকা। এছাড়াও গোপালগঞ্জে তার পৈত্রিক বাড়িতে একটি অত্যাধুনিক দুই তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। তার একটি বিলাসবহুল গাড়িও রয়েছে এবং স্ত্রী ও সন্তানদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে।
বিভিন্ন ব্যাংকে ডিপিএস, এফডিআর এবং সঞ্চয়পত্রে মাহবুব হোসেনের বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে। খাদ্য অধিদফতরে চাকরি পাওয়ার পর তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে এসব সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ।
এছাড়া, মাহবুব হোসেন জনৈক আলাউদ্দিন কবীরের রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া মৌজার ১ একর ১৫ শতাংশ জমি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছেন। ওই জমির ভুয়া বায়নামা তৈরি করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছেন।
আলাউদ্দিন কবীর জানিয়েছেন, তিনি এই জমি বিক্রি করার জন্য আলোচনা করেছিলেন। তবে, বর্তমানে ওই জমিতে বাউন্ডারি ওয়াল করে দখলে নিয়েছেন এবং অন্য কারোর কাছে বিক্রি করতে দিচ্ছেন না। এমনকি তিনি রাজশাহীতে আরও ৮-৯ জনের জমি জবরদখল করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় প্রভাবশালীদের মেনেজ করে মাহবুব হোসেন দখলদারিত্ব করছেন বলে জানা গেছে। পতিত সরকারের একজন মন্ত্রীর মতো তিনি এখন টাকা ব্যাংকে রাখেন না। তার পুরো অর্থ এখন বাসায় রাখেছেন বলেও সূত্র দাবি করেছে।
সরকারি কর্মচারী হিসেবে তার এ ধরনের প্রতারণামূলক কার্যকলাপ কর্মচারী বিধি লঙ্ঘন ও ফৌজদারি অপরাধের শামিল।
এতসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও মাহবুব হোসেন এখনও তার পদে বহাল আছেন। সাধারণ মানুষ ও তার সহকর্মীরা তার দুর্নীতির যথাযথ তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী শেখ মো. মাহবুব হোসেন এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট বলে দাবি করেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

খাদ্য অধিদফতর
রাজশাহীর উপ-সহকারী প্রকৌ. মাহবুবের ৭০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ
- আপলোড সময় : ২৮-১১-২০২৪ ১২:২৫:৩১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৮-১১-২০২৪ ১২:২৫:৩১ পূর্বাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ